আজনাদীনের যুদ্ধ – আবু বকর রাঃ এর জীবনী

0
9
আজনাদীনের যুদ্ধ - আবু বকর রাঃ এর জীবনী
আজনাদীনের যুদ্ধ - আবু বকর রাঃ এর জীবনী

আজনাদীনের যুদ্ধ

দামেশক থেকে জেরুজালেম পর্যন্ত যে রাস্তা গেছে সে রাস্তার ধারে। আলরামলেহ্ ও বায়েৎ-জিরিন নামক দুটি স্থানের মাঝখানে আজনদীন অবস্থিত। এইখানেই রােমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস খালিদকে বাধা দেবার জন্য তার ভাই থিওডােরার অধীনে ৭০ হাজার গ্রীক সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসজ্জায় এই সৈন্যদল অতুলনীয় ছিল। রােমকদের পারস্য অভিযানের পর এত বড় সেনাবাহিনী সে যুগে আর কোথাও দেখা যায় না ।

খালিদ যখন আজুনাদীনের কাছাকাছি হলেন তখন আমরু ইয়াজিদ, সুহরাবিল ও অন্যান্য সেনাপতিরাও নিজ নিজ সৈন্যসহ খালিদের সাথে এসে মিলিত হলেন। শিবির সন্নিবেশের পর খালিদ তাঁর বিশ্বস্ত সহচর বীরবর দেরারকে শত্রুদের গতিবিধি ও পথঘাট সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য গুপ্তচর বেশে পাঠিয়ে দিলেন। দেরার এক অসাধ্য সাধন করে এলেন। গুপ্তচর বেশে ঘুরতে ঘুরতে তিনি একস্থানে ত্রিশ জন গ্রীক অশ্বরােহী সৈন্যের সম্মুখীন হলেন।

কিন্তু নিজ বর্শা দিয়ে সতর জনকে মৃত্যু বা আহত করে নিজ শিবিরে ফিরে এলেন। এই দুঃসাহসিন্যার জন্য খালিদ তাকে মৃদু তিরস্কার করলেন, দেরার তার উত্তরে বললেন, “আমি তাে তাদেরকে আগে আক্রমণ করতে যাই নি।

তারা যখন আমাকে আক্রমণ করতে এলে তখন কি করে আমি তাদেরকে পিছনে ফেলি? সেরকম করলে আল্লাহর কাছে আমি কি বলে জবাবদিহি করতাম?” খালিদ খুশি হলেন।

আজুনাদীনের যুদ্ধ সংঘটিত হবার আগে আরও একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা ঘটল । গ্রীকদের অন্যতম সেনাপতি ওয়ার্দান একদিনের জন্য যুদ্ধ স্থগিত রেখে দূরভিসন্ধিমূলে খালিদের সাথে কোন গােপন কথা বলার জন্য তাঁকে সাদর আমন্ত্রণ জানায়। একটি ঝােপের ধারে উভয়ের সাক্ষাতের স্থান নিণতি হয়।

ষড়যন্ত্র ছিল যে, ১০ জন সশস্ত্র গ্রীক সৈন্য সেই ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে। এবং ওয়ার্দানের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র তারা লাফিয়ে পড়ে খালিদকে হত্যা করবে।

খালিদ তা জানতে পেরেই ওয়ার্দানের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। পরদিন সকাল। বেলা সাক্ষাতের সময় ঠিক করা হলাে। সব সুস্থির করে ওয়ার্দান সন্ধ্যা রাতেই ১০ জন সৈন্যকে সেই ঝোপের মধ্যে আত্মগােপন করে থাকার নির্দেশ দিলেন। গভীর রাতে খালিদের নির্দেশক্রমে দেরার ও অন্য নয় জন আরব সেনা চুপি চুপি।

হযরত আবুবকর (রাঃ) সেই ঝােপের মধ্যে প্রবেশ করে দেখলেন, দশজন গ্রীক সৈন্য মাতাল হয়ে পড়ে

আছে। হঠাৎ দেরার ও তার সঙ্গীরা গ্রীকদেরকে হত্যা করে তাদের পােশাকগুলাে নিজেরা পরিধান করলেন এবং সেই ঝোপের মধ্যে আত্মগােপন করে রইলেন।

পরদিন নির্ধারিত সময় ওয়ার্দান এবং খালিদ নির্দিষ্ট স্থানে এসে পৌছলেন । দুই চারটি কথা হবার পর ওয়ার্দান তার গুপ্ত সৈন্যদের প্রতি সঙ্কেত-ধ্বনি করলেন। হঠাৎ ঝোপের মধ্য থেকে গ্রীক বেশধারী দেরার বর্শা হাতে মূর্তিমান আজরাইলের মতাে ওয়ার্দেন সামনে এসে দাঁড়ালেন, তার পিছনে আরও নয় জন

অনুরূপ বেশধারী আরব বীর দেখা দিলেন। ব্যাপার বুঝতে ওয়ার্দানের একটু দেরি হলাে না। ওয়ার্দান তখন ভয়-বিহ্বল চিত্তে খালিদকে বললেন, “দোহাই আপনার, আমাক এই নররাক্ষসের হাতে সমর্পণ করবেন না। সে ইতিপূর্বেই আমার পুত্রকে মেরে ফেলে এসেছে।”

কিন্তু খালিদ তাতে কান দিলেন না। দেরার ওয়ার্দানের সামনে এসে বললেন, “ওরে নরাধম! কি জঘন্য ষড়যন্ত্র-জালই না তুমি বিস্তার করে রেখেছিলে! তার প্রতিফল গ্রহণ কর।” বলতে বলতেই দেরার তাঁর বর্শা দিয়ে ওয়ার্নানকে ভূপাতিত করলেন এবং সাথে সাথে তরবারি দিয়ে তার মাথা দ্বিখন্ডিত করে খালিদকে উপহার দিলেন। তখন সেই মুণ্ড খালিদের বর্শায় তুলে ধরে উল্লাসভরে নিজেদের শিবিরে ফিরে গেলেন ।

পরদিন উভয় পক্ষে সেনাদল যুদ্ধক্ষেত্রে এসে পরস্পরের সম্মুখীন হলেন । কিন্তু যুদ্ধ শুরু হবার আগে একজন সম্ভ্রান্ত বৃদ্ধ গ্রীক দূত সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে খালিদের শিবিরে উপস্থিত হলেন। বৃদ্ধ এসে খালিদকে বললেন “আপনার সিরিয়া বিজয়ের স্বপ্ন আকাশ-কুসুম বলে ধরে রাখুন। এ স্বপ্ন কখনও সফল হবে না। এ যাবত কেউই কখনও সিরিয়া বিজয় করতে পার নি । গ্রীকদের উপর আপনাদের সাময়িক বিজয় আপনাদেরকে যেন বিভ্রান্ত না করে। এ যাবত যারাই সিরিয়া বিজয় করতে এসেছে, সেখানে সমাধি লাভ করেছে। সিংহাসন লাভ করতে পারে নি। কাজেই এ দুরাশা পরিত্যাগ করে আপনারা আমাদের সাথে সন্ধি স্থাপন করুন। 

যদি আপনারা যুদ্ধ না করে ফিরে যান, তবে আমরা আপনাদের প্রত্যেকে স্বর্ণমুদ্রা উপহার দিব। আপনাকে দিব দশটি পােশাক, দশটি পাগড়ী এবং দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা । আর আপনাদের খলিফা পাবেন একশতটি পােশাক ও পাগড়ী এবং একলক্ষ্য স্বর্ণ মুদ্রা।”

এ প্রস্তাবে উত্তেজিত খালিদ উত্তর দিলেন, আপনার নির্বুদ্ধিতা। এ সব প্রলােভনে আমাদের মন ভুলবে না, আমরা ভিক্ষা করতে আসে নি। আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে তিনটি, (১) কুরআন (২) জিজিয়া (৩) তরবারি।

হয় ইসলাম গ্রহণ করুন, নয় জিজিয়া দিন, ন ত যুদ্ধ করুন। আপনাদের সংখ্যাধিক্য দেখে আমরা ভয় করি না। আমরা সত্যের সৈনিক, আল্লাহর শক্তিতে আমরা শক্তিমান। সামান্য পােশাক ও স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আমরা কি করব । অক্ষণের মধ্যেই তাে আপনাদের দেশ, ধনরত্ন এবং স্ত্রী-পুত্র কন্যা আমাদে হস্তগত হবে ।

অতএব ফিরে যান, আমরা সন্ধি করতে রাজী নই।” গ্রীক দূত নিরাশ হয়ে ফিরে গেলেন। তখন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। খালিন নি সৈন্যকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ভাইয়েরা, তােমাদের সামনে অগণিত শক্ৰমনা তােমাদেমকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু শত্রুসেনা সংখ্যা দেখে ভS করার কিছু নেই। আমরা আল্লাহর সৈনিক-সত্যের সৈনিক। আমরা কেন বিমীদেমকে ভয় করব? প্রাণপণ করে তােমরা আল্লাহর নামে যুদ্ধ করবে। তােম| যদি সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত কোনমতে শত্রুদের আক্রমণ বন্ধ ক রাষত পাম, তবে তোমাদে জয় সুনিশ্চিত; কারণ, রসুলুল্লাহ্ তাঁর সব যুদ্ধে সবকালেই জয়লাভ করতেন।” এই বলে তিনি সৈন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেন।

ওদিকে থিওডোের একটি সুন্দর সুসজি যেত অষে চড় শ্রীক সৈন্যের সামনে এসে দাঁড়ালেন। দুই চারটি উত্তেজনাপূর্ণ কথা বলার পর তিনি আরমেনিয়ান তীরন্দাজদেরকে হুকুম দিলেন, আক্রমণ কর।

যুদ্ধ শুরু হলাে। বৃষ্টিধারার মতাে শক্ররা তীব্র বর্ষণ করতে লাগল। মুসলমানেরা খুব দক্ষতার সাথে চালের আড়ালে থেকে সেই তীরধারা থেকে আত্মরক্ষা করতে লাগলেন। কোন সম Sও জনেই তা হেটে যান নি। সে এক খালিদ এবং তাঁর অশ্বরােহী সৈন্যদল ও অ| S S তুমিই এহণ ত্রলেন।। অপূর্ব শৃঙ্খলা। মরণ-পণকরে সবাই শজদের তীর অঙ্গে ধারণ করতে লাগলেন। সারাদিন এভাবে কেটে গেল। সক্যা ঘনিয়ে এল, ইতিপূর্বেই শত্রুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। তাদের ভুলও তীরশূন্য হয়ে এসেছিল। সেই অনুকূল মুহতে এক দিককে আক্রমণ করার জন্য।

খালিদ মুসলিম সৈন্যদেরকে হুকুম দিলেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই থাকা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। অনেক সৈন্য তনের গেল । যারা অবশিষ্ট রইল তারা পালিয়ে গিয়ে দামেশক এবং এটিকে হয় নিল। রাত আসতেই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল । দেখা গেল হক পক্ষে পঞ্চাশ হাজারের উর্ধ্বে মৃত্যু হয়েছে। তাই মুসলিম হিনের সংখ্যা মাত্র  থিওডোরের অবস্থা খুবই শেও হরে হল তিনি নিয়ে হয় আশ্রয় নিলেন। এট হিরাসি এই পরাজয়ে রহিত হয়ে বিওতেরকে যে পদচ্যুতই বলে ত| নই; টিনে পেলে তাকেইলেন। খালিদ তখন এ বিজয় সংবাদ হত অন্তুকে নিনিততরে যে জানালেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি রুণাময় অহর গুণগান তুমি তন = = =

আমাদের আর কে উপস্য নেই- তবু তাঁর র হ হ হর প্রশংসা করি। অহনাকে অশেষ ধন্য যে, তিনি আমাকে বইs গৌরব দিয়েছেন এবং পৌত্তলিকােল থেকে আমাকে কি ২। আমীরুল মুমেনিনকে আনন্দের সাথে জন ছি যে, আমার নতুন দত্ত এক বিশাল সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করে। এক শত থিওডােরের অধীনে তারা চালিত হয়েছিল এবং যত ইনমে হ-সক আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছিল। আর সহয্য ও উ ম র আমরাও প্রাণপনে যুদ্ধ করেছি এবং শত্রুদেরকে সতৰ হত ও ২২ত করে দিয়েছি। ৫০ হাজারেরও বেশি এক সৈন্যকে অ| সে কেন আমাদের পক্ষে মাত্র ৪৪৭ জন শহীদ হয়েছে। জাদ= = = ৩০

তারিখে আমি এই পত্র লিখেছি। আমাদের সকলের জন্য স্থান দেয় এখন করি। আপনার উপর এবং ম মুমীনদের উপর আর কত হে।

আরজ ইতি-

ইসলামের প্রাচীন যুগের ইতিহাসে আজাদীনের যুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধে বাইজানটিয়ান সম্রাজ্যের ভিত্তিভূমি মারাত্মকভাবে আহতও হতে রােমান সৈন্যদের মনােবল একেবারে ভেঙ্গে পল। এই যুদ্ধেs 3 থেকে তন মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, সংখল, অস্ত্র, কৌশল ও পত প্রাচুর্য কোন কিছু দিয়েই দুর্ধর্ষ আরবদের বিজয় গতি রোধ করা যাবে না ভবিষ্যতের কোন যুদ্ধেই তারা এই মনােভাবকে অতিক্রম ছুতে ভেন গেলেন । কতরকণ্ঠে তিনি বলতে লাগলেন, “হে চির জ্যত আল্লাহ, তােমার সেবকদেরকে কাফেরদের হাতে সমর্পণ করাে না।” বিপদের সঙ্কেত পেয়ে মুসলিম সৈন্য মুহূর্ত মধ্য স্ব-স্ব স্থানে এসে দাঁড়াল এবং গ্রীকদেরকে পাল্টা আক্রমণ করে হটিয়ে দিল । অনেক সৈন্য হারিয়ে সেনাপতি নিরাশ হৃদয়ে দুর্গ – মধ্যে আত্রায় হলো ।

সত্তর দিন অবরোধের পর যখন দুর্গে খাদ্যভাব দেখা দিল এবং সৈন্য, সেনাপতি ও নগরবাসীদের মনােবল দুর্বল হয়ে পড়ল, তখন দামেশক নগরী আত্মসমর্পণ করল । একদিন গভীর রাতে একশত জন পুরােহিত ও প্রতিনিধি মুসলিম শিবিরে আবু ওবায়দার সাথে সন্ধির প্রস্তাব করলেন। আবু ওবায়দা সেই প্রস্তাবে সম্মত হলেন, তখন নিম্নলিখিত শর্তে একটি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হলাে।

১। সব শক্রতার অবসান হলো।

২। যারা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করতে চাইবে তাদেরকে মুসলমানেরা কোন বাধা। দিবে না, তারা তাদের সম্পত্তি যা কিছু সাথে নিতে পারে তাও নিতে পারবে।

৩। খলিফার অধীন হয়ে জিজিয়া কর দিবে তারা নিরাপদে থাকবে। তাদের ধর্মে-কর্মে হস্তক্ষেপ করা হবে না । নগরের সাতটি গীর্জাই তাদের অধিকারে থাকৰে।

কিন্তু একটি বিভ্রাট ঘটল । খালিদ ছিলেন আবু ওবায়দার ঠিক বিপরীত দিকে। নিজ রণকৌশলে দুর্গের পরিখা পার হয়ে তিনি নিজ শক্তিবলে নগর অধিকার করেন। এতে অনেক খ্রীস্টান মারা যায় । আবু ওবায়দার সাথে সন্ধি স্থাপনের কথা তিনি তখনও জানতে পারে নি। তিনি যখন আবু ওবায়দার সাথে

মিলিত হলেন, তখন তার শান্তির বাণী শুনে তিনি একটু রাগান্বিত হলেন। আবু ওবায়দাকে তিনি বললেন, “আমি কি খলিফার প্রতিনিধি নই? আপনি আমাকে না জানিয়ে সন্ধি করলেন কেন? দেশ তাে আমি জয় করেছি; কেন তবে সন্ধি করতে যাৰ?” এই বলে তিনি তার সৈন্যদেরকে পুনরায় অস্ত্র ধরতে বললেন। নগরবাসী শঙ্কিত হয়ে আবু ওবায়দার করুণা ভিক্ষা করল । আবু ওবায়দা তখন এই সন্ধি মেনে নেবার জন্য অত্যন্ত আন্তরিকভাবে খালিদকে অনুরােধ করলেন।

যুদ্ধের সুবিধা-অসুবিধা দুই দিক ভাল করে বুঝিয়ে দিলে খালিদ আবু ওবায়দার কথা মেনে নিলেন। সন্ধির শর্ত অনুসার যে সব খ্রীষ্টান দেশ ত্যাগ করতে চাইল তারা প্রশস্ত ময়দানে এসে শিবির স্থাপন করল এবং যার যা ইচ্ছে ঘর থেকে সাথে আনল। দেশত্যাগীদের মধ্যে টমাসের বিধবা পত্নীও (হিরাক্লিয়াসের কন্যা) ছিলেন। তাকে বিনা পণেই মুক্তি দেয়া হয়েছিল। সন্ধির একটি শর্ত ছিল যে, তিন দিন পর্যন্ত দেশত্যাগীদেরকে কিছুই বলা হবে না। কিন্তু চতুর্থ দিন তাদেরকে শত্রু বলে মনে করা হবে।

এই সময় একটি চিত্তাকর্ষক ঘটনা ঘটল। জোনাস নামক জনৈক গ্রীক যুবকের সাথে ইউডােসিয়া নাম্নী একটি সুন্দরী কন্যা বাগদত্তা হয়েছিল। সুযােগের অভাবে তাদের বিয়ের কাজ তখনাে সুসম্পন্ন হয় নি। জোনাস যখন মুসলমানদের হাতে বন্দী হলাে, তখন মৃত্যুর হাত এড়াবার জন্য সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল। উকিন্তু ইউডােসিয়া তার মাতাপিতার সাথে খ্রীষ্টান ধর্মই পালন করতে লাগলেন।

সন্ধির শর্ত অনুসারে খ্রীস্টানদেরকে যখন ইসলাম গ্রহণ, জিজিয়া প্রদান অথবা দেশত্যাগের স্বাধীনতা দেয়া হলাে, তখন ইউডােসিয়া ধর্মকেই প্রেমের উপর স্থান দিল; এবং মাতাপিতার সাথ দামেক পরিত্যাগ করে গেল। জোনাস খালিদকে সব কথা খুলে বলল এবং ইউডােসিয়াকে জোর করে আটকিয়ে রাখতে অনুরােধ করল। কিন্তু সন্ধির শর্ত ভঙ্গ হয় বলে খালিদ তাতে রাজী হলেন না। তবে তিন দিন পরে অভিযান করে উদ্ধার করবেন বলে আশা দিলেন। তিন দিন পর বীরবল দেরার ও জোনাসকে সাথে নিয়ে খালিদ একটি ক্ষুদ্র বাহিনীসহ ইউডােসিয়ার সন্ধানে বের হলেন। অনেকপথ অতিক্রম করে এসে অনেক অনুসন্ধানের পর অভিযাত্রীদল ইউডােসিয়ার সন্ধান পেলেন। জোনাস তাকে সাগ্রহে আলিঙ্গন করতে গেলেন। কিন্তু ইউডােসিয়া ঘৃণাভরে সে আলিঙ্গন প্রত্যাখ্যান করলেন। অবশেষে আত্মরক্ষা যখন অসম্ভব মনে হলাে তখন সে নিজ বুকে ছুরিকা বসিয়ে আত্মহত্যা করল। দামেস্ক থেকে প্রায় দেড়শত মাইল দূরে এই কাণ্ড ঘটল। খালিদ তখন তাঁর দলবলসহ দ্রুতগতিতে আবার দামেশকে ফিরে এলেন। পরবর্তী এক যুদ্ধে জোনাস শহীদ হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here