এক জঘন্য পাপীর তাওবার ঘটনা

0
3
এক জঘন্য পাপীর তাওবার ঘটনা
এক জঘন্য পাপীর তাওবার ঘটনা

এক জঘন্য পাপীর তাওবার ঘটনা

এক জঘন্য পাপীর তাওবার ঘটনা – একদা দাওয়াতে ইসলামীর এক মুবাল্লিগ (প্রচারক) এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর দরবারে হাযির হলেন, যে সীমাহীন জঘন্য পাপাচার সংক্রান্ত পেশায় জড়িত ছিলাে। তিনটি হত্যার মতাে জঘন্য অপরাধও সে করে বসেছিলাে। কয়েকবার অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে জেলও ভােগ করেছিলাে। তাঁর দরবারে সে তার অভিযােগগুলাে পেশ করে বললাে, “আমি আমার বাকী জীবনটুকু খৃষ্টান | হয়ে অতিবাহিত করতে চাই। কিন্তু আপনার এ মুবাল্লিগ আমাকে বারংবার দাওয়াত দিয়ে আপনার নিকট নিয়ে এসেছে। আপনি যদি আমার ব্যাপারে সন্তুষ্টি জনক কিছু করতে পারেন তবে ভালাে; নতুবা কাল সকালে গীর্জায় গিয়ে নিয়ম মােতাবেক খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাবাে। আর নতুনভাবে অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়ে যাবাে।” আমীর-ই-আহলে সুন্নাত অতি মনযােগ সহকারে তার কথাগুলাে শুনলেন। তারপর আন্তরিকতা ও স্নেহপূর্ণ পন্থায় তাকে বুঝাতে আরম্ভ করলেন। তাঁর মাদানী-মাধূর্যসিক্ত বাক্যগুলাে প্রভাব বিস্তারকারী তীর হয়ে তার হৃদয়ে গিয়ে গেঁথে গেলাে । আর কয়েকটামাত্র মুহুর্ত অতিবাহিত হতেই আমীর-ই-আহলে সুন্নাতের হাতে চুমু খেতে লাগলাে।

আলহামদু লিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা, সে তখনই খৃষ্টান হয়ে যাবার ইচ্ছা পরিহার করে নিলাে। কিন্তু যেহেতু সে খৃষ্টান হয়ে যাবার প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলাে, সেহেতু সে শরীয়তের বিধানানুসারে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলাে। সুতরাং তিনি তাকে তাওবা করিয়ে নতুনভাবে মুসলমান বানালেন। আলহামদু লিল্লাহ! সে তাঁর সত্যের পূজারী হাতে বাই’আত গ্রহণ করে শাহানশাহে বাগদাদ সাইয়্যেদুনা গাউসে আযম (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) ‘র গােলামীর পাট্টা আপন গলায় সজ্জিত করে নিলো। সুবহানাল্লাহ! এটা হচ্ছে এমনসব বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যেগুলাে আমীর-ই- আহলে সুন্নাতের বদান্যতার প্রাবনের ছোঁয়া পেয়ে সময় সময় প্রকাশ পাচ্ছে । অনুরূপভাবে, তাঁর বরকতময় সংস্পর্শে এসে অগণিত বে-নামাযী নামাযের পাবন্দ হয়ে গেছে। অশীল ও চরিত্র হননকারী নভেল পাঠে অভ্যস্থরা এখন কালামে পাকের তেলাওয়াত ও রসূল পাক (সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর না’ত পাঠাবৃত্তি করে নিজেদের রসনাকে সিক্ত রাখতে দেখা যাচ্ছে। নাটক দর্শক ও ভি.সি.আর-এর অরুচিকর ফিল ও দৃশ্যাবলী দেখতে অভ্যস্থ লােকেরা
এখন মদীনা মুনাওয়ারার সৌন্দর্যমণ্ডিত দৃশ্যগুলাে স্বচক্ষে দেখার আকাথায় অস্থির হয়ে আছে। অনুরূপভাবে, পাপের অগণিত রােগী তাঁ I হাতে আরােগ্য লাভ করছে ।

সামাজিক এমন অগণিত অনাচার, যেগুলোকে মন্দ বলেই গণ্য করা হচ্ছেনা, যেমন- গীবত, চুগলখােরী, কুষ্টি, মাতাপিতার অবাধ্যতা, দাড়ি মুণ্ডানাে কিংবা হেঁটে একমুষ্ঠি অপেক্ষা খাটো করে ফেলা, বিয়েসাদীষই অবৈধ অনুষ্ঠানাদি, গান-বাদ্য, দুনিয়ার প্রতি লােভ কিংবা ধনী লােকদের তোষামোদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে নির্ধিধায় সমালোচনা-পর্যালোচনা কর। আমার-ই-আহলে সুন্নাতেরই হিসসা হয়ে আছে। যেমনিভাবে রােগ নির্ণয় করা ছাড়া ঔষধ উপকারী হতে পারেনা, তেমনিভাবে, মন্দকে যে মন্দ করেন সে কীভাবে নিজেকে সেটার অপদ থেকে বাঁচাতে পারবে? সুতরাং সমাজ-সংস্কারের জন্য সমাজে ছড়িয়ে পড়া অন |চারগুলাের অগণিত কুফলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সেগুলাে থেকে বাচার তদবীরসমূহ তিনি মুসলমানদের সামনে পেশ করে থাকেন। তাঁর দ্বীনী বিপ্লবের প্লাবন শুধু পুরুষদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, নারীরা পর্যন্ত তাঁর বিপ্লবের স্রোতধারা পেয়ে ধন্য হচ্ছেন। তিনি নারীদের পর্দার প্রতি কঠার তাকদ দিয়ে থাকেন। যেকোন স্থানে ইজতিমায় মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সেখানে আমীর-ই-আহলে সুন্নাত ছি তাদেরকে পর্দা সহকারে অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন।

আল্লাহ তা’আলা (আয্যা ওয়া জাল্লা) তাঁর জ্বালাময়ী বয়ানের সাথে সাথে ওই I প্রভাবও দান করেছেন যে, ইসলামী ভাইদের সাথে সাথে ইসলামী বােনেরাও তাঁর বয়ান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আল্লাহ (আযযা ওয়া জাল্লা)র তাওফীক্ব ক্রমে, রােযা ও নামাযের পাবন্দ হয়ে যায়। অনুরূপভাবে, I অগণিত মহিলা এখন বেপদাপনা থেকে তাওবা করে পর্দানশীন হয়ে ছ গেছে। ইসলামী ভাইদের সাথে সাথে ইসলামী বােনদের মধ্যে সংস্কার সাধন ও প্রচারণার উত্তম পন্থা হচ্ছে তাঁর বয়ানের কেসেটগুলাে, যেগুলাে শুনে অগণিত ইসলামী বােনদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসে গেছে। আর তাঁর কেসেটগুলাের বরকতে অসংখ্য পরিবার সুন্নাতসমূহের ধাঁচে সাজতে আরম্ভ করেছে। মাকতাবাতুল মদীনা’, যা হচ্ছে একটি খাঁটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, তাঁর লিখিত বই-পুস্তক প্রচারের সাথে সাথে তাঁর বয়ানের কেসেটগুলােও রেকর্ড করে থাকে। আর তাবলীগ বা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতি মাসে হাজার হাজার কপি বিক্রি করছে। তিনি কখনাে নিজের কেসেট ও লেখনীগুলাে থেকে আর্থিক লাভ গ্রহণ করেন নি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here