বীরত্ব

0
2
বীরত্ব
বীরত্ব

বীরত্ব

শৌর্যবীর্য মানুষের পরম সম্পদ। স্নেহ, মমতা, পরােপকার ও অন্যান্য হৃদয়- বৃত্তি মানুষকে সুন্দর করে বটে কিন্তু পূর্ণ করে না। তার জন্য চাই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বা বীরত্ব। হযরত আবুবকর শুধু যে হৃদয়-বৃত্তিতেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন তা নয়, তিনি একজন শ্রেষ্ঠ বীরপুরুষও ছিলেন। কাবা ঘরে হযরত মুহম্মদ তৌহিদ প্রচার করতে গিয়ে যে-দিন কোরেশদের দিয়ে সর্ব প্রথম আক্রান্ত হয়ে হতচেতন হন,  সে-দিন আবুবকর একাই কোরেশদেরকে বাধা দেবার জন্য ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তিনি আহত হয়ে সংজ্ঞাহীন হন। প্রকৃত বীরত্ব সে দিন হযরত মুহম্মদ ও  আবুবকরই দেখিয়েছিলেন; কোরেশদের সেদিনকার জয়ের মধ্যে কোন পৌরুষ ছিল না, ছিল জঘন্য বর্বরতা ও কাপুরুষতা। সেই থেকে অনেক যুদ্ধক্ষেত্রে আবুবকর বীরের মতাে যুদ্ধ করেছেন । রসুলুল্লাহর জীবনে এমন কোন যুদ্ধ বিগ্রহ ছিল না যেখান হযরত আবুবকর সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন নি। বদরের যুদ্ধে হযরত আবুবকর তরবারি হাতে রসুলুল্লাহর দেহরক্ষী ছিলেন। ওহােদের যুদ্ধ হযরত আবুবকর মুসলিম সৈন্যের দক্ষিণ ভাগের পরিচালক ছিলেন। যুদ্ধে ঘন দুর্যোগে হযরত আবুবকর এবং অন্যান্য কয়েকজন সাহাবী প্রাণপণে যুদ্ধ করে খুবকষ্টে রসুলুল্লাহর জীবন রক্ষা করেছিলেন। খন্দকের যুদ্ধে হযরত আবুবকর দিন-রাত পরিখা পাহারার কাজে নিযুক্ত ছিলেন এবং সার্থকভাবে কোরাশেদের সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন । হুদাইবিয়ার সন্ধি-শর্ত আলােচনাকালে যখন কোরেশরা যুদ্ধ করবে বলে ভয় দেখাল, তখন হযরত আবুবকর ও অন্যান্য সবার সাথে যুদ্ধের জন্য তৈরি হলেন।

মক্কা বিজয়ের দিন হযরত আবুবকর রসুলুল্লাহর সাথেই বিজয়ী বেশে নগরে প্রবেশ করেছিলেন। তাবুক যুদ্ধে হযরত আবুবকর নিশান বরদার ছিলেন, হনায়েনের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য যখন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং রসুলুল্লাহর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠে, তখন হযরত আবুবকরই পুনরায় বিক্ষিপ্ত সৈন্যদেরকে একত্রিত করে যুদ্ধ করেন। খেলাফত লাভ করার পর যখন বিভিন্ন সম্প্রদায় মদীনা আক্রমণ করতে এগিয়ে যায়, তখন আবুবকর নিজেই সৈন্য চালনা করে শত্রুদেরকে পরাজিত করেন। সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ দুই রাষ্ট্রশক্তি রােমক ও পারসিকদের বিরুদ্ধে তিনি যে সব অভিযান পাঠিয়ে দেন, তার মধ্যেও আবুবকরের তীক্ষ্ণ কূটনীতি ও যুদ্ধকৌশলের পরিচয় পাওয়া যায় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here