শরীয়ত, তরীকত ও হাকীকত এবং আহলে জাহের ও আহলে বাতেনের মধ্যে পার্থক্য

    0
    128
    _শরীয়ত তরীকত ও হাকীকত
    _শরীয়ত তরীকত ও হাকীকত

     শরীয়ত, তরীকত ও হাকীকত এবং আহলে জাহের
    ও আহলে বাতেনের মধ্যে পার্থক্য

    শরীয়ত শব্দটি আরবী যার অর্থ হলাে দাসত্বের দায়িত্ব যথারীতি পালন করা। আভিধানিক অর্থে শরীয়ত হবিস্তারিত ও সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করা। আরবীয়গণ বলেন- 11s w। অর্থাৎ, আপ্তাহ পাক অমুক কাজকে রীতি ও পন্থা করে দিয়েছেন। এ অর্থেই জনমথকে “মাশরাআহ” বলে। ইসলামের দৃষ্টিতে শরীয়ত, শরা, দ্বীন, মিল্লাত ও নামূস শব্দগুলাে একই অর্থ বহন করে।

    তরীকত হলাে সেই স্বভাব চরিত্রের নাম যা আল্লাহর পথের অভিসারীদের বৈশিষ্ট্য, যারা সতত আল্লাহ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেরকমারি বন্ধুর পথ অতিক্রম করছেন এবং উন্নতির বিভিন্ন সােপানে ও মর্যাদায় উপনীত
    হচ্ছেন। হাকীকত (৩.ais) শব্দটি আরবী যা এJ 69 থেকে গৃহীত। যে বস্তু যথার্থভাবে সাব্যস্ত উহাকে হাকীকত বলে । Gas এর শেষে 6 যুক্ত করে উহাকে গুণবাচক অর্থে থেকে বিশেষ্যের অর্থ নেয়া হয়েছে।

    আরবী ভাষা- ভাষীদের পরিভাষায় কোন বস্তুর হাকীকত বলতে উহাই যদ্বারা ঐ বস্তু প্রতিষ্ঠিত। প্রচলিত ভাবধারায় যে বস্তু যদ্বারা প্রতিষ্ঠিত উহাই তার হাকীকত । তবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিক হতে উহা হাকীকত (বাস্তব), বাহ্যিকতার দিক হতে উহাকে হাভিয়্যা বলে এবং উভয় দিক হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে উহাকে মাহিয়াত বলে। এ শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলাে এমন বস্তু যা সাব্যস্ত ও বাস্তব যা অস্বীকার করার উপায় নেই।

    ভাষাতত্ব বিদগণের পরিভাষায় হক্ক (5) হলাে ঐ বস্তু যা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যশীল । হক্ক শব্দটি কথাবার্তা,
    আকীদা বিশ্বাস ও দ্বীন ও মাজহাবের অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এসব কিছু হক্ক অর্থে শামিল। হকের বিপরীত হলাে বাতিল। এক কথায়, কোন বস্তুর হাকীকত হওয়ার অর্থ হলাে উহা বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যশীল হওয়া ।
    হজরত রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, বাতেনী ইলম বা জ্ঞান আল্লাহপাকের গােপন রহস্য ও ভেদ সমূহের অন্তর্ভুক্তমিনহাজুল ওয়াসূল বা আল্লাহ প্রাপ্তির পথ – ১০

    একটি গােপন রহস্য ও ভেদ এবং তত্বরাজির মধ্য হতে একটি বিশয় ৩০ যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে তা সনি করেন সালমা দায়লামী হজরত আলী (রাঃ) হতে অত্র হাদীসগনি বর্ণনা করেছেন হরহ
    রাসূল পাক সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাে বলেন, ‘সম বই ধরণের। (১) অন্তর জ্ঞান যা বান্দার জন্য পরকালে উপকারী (১) জবানী বা বাহ্যিক জ্ঞান যা বনী আদমের উপর আল্লাহ পাকের দালাল । তারা বাকি
    হাদীসখানি হজরত হাছান বছরী (রহঃ) হাতে মুরছাল সূত্রে রওয়ায়েত করেছেন।

    ওলামায়ে হক্কানী বলেছেন, শরীয়ত হলে সর্বদা সাসত্বের দায়িত্ব পালনের হুকুম প্রদান আর হাকীকত হলাে রবুবিরত তথা ইলাহী তদবীর সমূহের পর্যবেক্ষণ । সুতরাং যে শরীয়ত হাকীকত ব্যতীত পালিত হয় উহা মহান আলাহর নিকট গ্রহণযােগ্য নয়। আর হাকীকত যা শরীয়তের সাথে শৃংবলিত নয় উহা ০ 2হণ যােগ্য
    নয়। শরীয়ত হলাে, তুমি মহান আল্লাহর ইবাদত করবে, আর হাকীকত হলাে ঐ ইবাদতে তুমি মহান আল্লাহকে দর্শন করবে ।

    সুতরাং শরীয়ত হলাে, নির্দেশিত কাজ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করা আর হাকীকত হলাে উহাই যা তিনি
    নির্ধারিত করে গােপন করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশ করেছেন । জানা উচিত যে, যারা আহলে জাহের তারা আহলে শরীয়ত। আর যারা আহলে বাতেন তারা আহলে হাকীকত। মূলতঃ শরীয়ত ও হাকীকত পরপরপরস্পরের সাথে সম্পৃক্ত ও বিজড়িত। কেননা, আল্লাহ প্রাপ্তির যে পথ, উহার জাহের ও বাতেন দু’টি দিক রয়েছে। জাহের হলাে শরীয়ত আর বাতেন হলাে হাকীকত । দুধের মধ্যে মাখন যেমন, শরীয়তের মধ্যে হাকীকত তেমন।

    সুতরাং দুধ ব্যতীত মাখনের অস্তিত্ব যেমন পাওয়া যায়না তদ্রুপ শরীয়ত ব্যতীত হাকীকত অর্জন করাও সম্ভব নয়। এখানে শরীয়ত ও হাকীকত বলতে সঠিক ও পছন্দনীয় পন্থায় দাসত্ব পালন করা। যে শরীয়তের হাকীকত নেই উহা মুল্যহীন ও বিফল । আর যে হাকীকতে শরীয়তের অনুসরণ নেই উহা বাতিল ও অগ্রাহ্য । সুতরাং শরীয়ত হলাে বাস্তব হক এবং হাকীকত উহার বাস্তব প্রয়ােগ ও যথার্থতা । শরীয়ত
    হলাে বিধাতার নির্দেশ মান্য করাদুই

    করা। উভয়কে পবিত্র আয়াত একত্রিত করেছে। যার তার্থ হলাে, আমরা। আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি । (সাহায্য ব্যতীত ইবাদত সম্ভব নয়। এখানে বাক্যের প্রথমাংশ শরীয়ত এবং দ্বিতীয়াংশ হাকীকত। মহান আল্লাহর ইবাদত করা দু’টি কঠিন স্তর অতিক্রম ব্যতীত সম্ভব নয়। (১) উপকারী জ্ঞান অর্জন (২) স্বচ্ছ, সুন্দর ও নিখুঁত ইলম বা জ্ঞান। আর মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা সাতটি কঠিন স্তর অতিক্রম
    ব্যতীত সম্ভব নয়।

    (১) ইবাদতের প্রথমােক্ত দু’টি স্তর অতিক্রম করা, (২) শরীয়ত বিরােধী কার্যকলাপ হতে শারীরিক অংগ প্রত্যঙ্গকে মুক্ত করার কঠিন শ্রম অবলম্বন, (৩) স্বভাবগত চাহিদা ও ভােগ বিলাস হতে নিজকে
    বিচ্ছিন্ন করা (৪) মানবীয় ক্রোধ ও ঔদ্ধত্ব থেকে অন্তরকে মুক্ত করা (৫) স্বভাবজাত কুরিপু হতে আত্মাকে স্বাচ্ছ ও পবিত্র করা, (৬) কল্পনা ও ধারণা প্রসূত চিন্তা চেতনা হতে স্বীয় জ্ঞানকে দূরে রাখা (৭) মহান সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত অন্য সব কিছু হতে স্বীয় আত্মাকে মুক্ত ও পবিত্র রাখা। এবং হাকীকত হলাে তার বিধান পর্যবেক্ষণ

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here